ইসলামে অন্যের হক নষ্ট করা, অন্যায়ভাবে কারো উপার্জনের পথ বন্ধ করা বা ক্ষতি করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কারো চাকরি, ব্যবসা বা জীবিকার ক্ষতি করার জন্য ষড়যন্ত্র করা জুলুমের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহ তাআলা জালিমদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
উচ্চারণ: ওয়ালা তাবখাসুন্ নাসা আশইয়াহুম ওয়া লা তা’ছাও ফিল আরদি মুফসিদিন।
অর্থ: “তোমরা মানুষের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না।” — (সূরা হুদ: ৮৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“মুসলিম হলো সে ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।” — সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০
অন্য একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওপর কোনো জুলুম করে থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়, সেই দিনের আগেই যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না।” — সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯
কিয়ামতের দিন মানুষের হক নষ্টকারীদের ব্যাপারে কঠিন সতর্কতা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“প্রকৃত নিঃস্ব ব্যক্তি সে, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও যাকাত নিয়ে আসবে; কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কারো রক্ত ঝরিয়েছে বা কাউকে প্রহার করেছে। তখন তার নেক আমল থেকে নিয়ে তাদেরকে দেওয়া হবে।” — সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮১
তবে কেউ যদি নিজের ভুল বুঝতে পারে, আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে আল্লাহর রহমতের দরজা খোলা রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا
উচ্চারণ: কুল ইয়া ইবাদিয়াল্লাযিনা আসরাফু আলা আনফুসিহিম লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ; ইন্নাল্লাহা ইয়াগফিরুয জুনুবা জামিয়া।
অর্থ: “বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন।” — (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
ইসলামী শিক্ষায় শুধু তওবা করাই যথেষ্ট নয়; যদি কারো ক্ষতি করা হয়ে থাকে, তাহলে তার হক ফিরিয়ে দেওয়া বা তার কাছে ক্ষমা চাওয়াও জরুরি। কারণ মানুষের হক সম্পর্কিত অন্যায়ের বিচার আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন অবশ্যই করবেন।
তাই কারো রিজিক নষ্ট করা, চাকরি হারানোর কারণ হওয়া বা উপার্জনের পথ বন্ধ করার মতো অন্যায় থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। আর যদি এমন ভুল হয়ে যায়, তবে দ্রুত তওবা করা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তার ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করাই ইসলামের নির্দেশ।
মন্তব্য করুন