পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে নির্মমভাবে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনা মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সন্তানদের খোঁজে ছুটোছুটি করা এক মা কুকুরের অসহায় দৃষ্টিই যেন এই বর্বরতার সবচেয়ে তীব্র প্রমাণ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সেই মা কুকুরটি। সন্তানদের জন্য তার অপেক্ষার এই দৃশ্য উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলা থেকে দেখা যায়।
কর্মচারীরা তাকে সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। দুপুরে কয়েকজন তাকে আদর করে নিচে নামালেও বিকেল পর্যন্ত সে উপজেলা চত্বরে ঘুরে বেড়ায়, যেন প্রতিটি কোণেই তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের কোনো একটি খুঁজে পাবে।
অভিযোগ উঠেছে—নিশি বেগম নামের এক নারী বিরক্তির কারণে ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরের ধারে ফেলে আসেন, পরে সেগুলো পানিতে পড়ে যায়। তিনি ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন নয়নকে তার সরকারি কোয়ার্টার ছাড়ার নির্দেশ দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নোটিশ পাঠানো হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। মা কুকুর ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী কুকুরছানা হত্যার দায়ে মামলার বিধান আছে—প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, এটি চরম অমানবিক কাজ। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সরকারি কোয়ার্টার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মা কুকুরের চিকিৎসার দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সন্তানহারা মা কুকুরের নিঃশব্দ কান্না মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনা ছড়িয়ে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন