গাজীপুরের শ্রীপুরে খাল খনন প্রকল্পের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থের ‘হরিলুট’ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খালের জায়গা দখলমুক্ত বা অবৈধ সীমানা উচ্ছেদ না করেই তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ— খাল খনন তো দূরের কথা, মূলত কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত বিষাক্ত পানি নিষ্কাশনের সুবিধা করে দিতেই এই যেনতেন ও লোকদেখানো কাজ করা হয়েছে।
শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘চৌক্কার খাল’
ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খালের রয়েছে এক গৌরবময় অতীত। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন সফল রাষ্ট্রপ্রধান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এই ‘চৌক্কার খালে’ এসেছিলেন এবং স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। সে সময় খালের পানি কৃষি ও পরিবেশের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই ঐতিহাসিক খালের বর্তমান করুণ দশা এবং খননের নামে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় মানুষ।
নামে খাল খনন, কামে কারখানার বর্জ্যের রাস্তা
সরেজমিনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রকল্পের বিভিন্ন চিত্রে দেখা গেছে, খালের মূল অংশ যেভাবে বেদখল ছিল, তা সেভাবেই রয়ে গেছে। খালের দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খালের তলানির সামান্য ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে খননকাজের সমাপ্তি টানা হচ্ছে।
স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানান:
আমরা আশা করেছিলাম ঐতিহ্যবাহী এই খালটি পুনরায় খনন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে। কিন্তু এখন দেখছি প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ করে শুধু কলকারখানার বিষাক্ত কেমিকেলযুক্ত পানি সহজে পারাপারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। এটা খালের উন্নয়ন নয়, বরং সরকারি টাকার শ্রাদ্ধ।”
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও স্থানীয়দের দাবি
৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের এমন ‘নমুনা’ দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী কর্মীরাও। তাদের মতে, সিএস বা আরএস দাগ অনুযায়ী খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করে এই খননকাজ সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং এতে কেবল রাষ্ট্রের অর্থেরই অপচয় হয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই হরিলুটের বিরুদ্ধে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ কাজ বন্ধ করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খালের প্রকৃত সীমানা উদ্ধার ও যথাযথভাবে পুনঃখননের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন