শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৫ বছর, ফাইল পাচার ও বদলি বাণিজ্যে বেপরোয়া এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী​ – দৈনিক দেশেরকথা
Desher Kotha
৪ মে ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৫ বছর, ফাইল পাচার ও বদলি বাণিজ্যে বেপরোয়া এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী​

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের দপ্তরে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জেঁকে বসেছেন মাউশির কর্মচারী মো. আরিফুর রহমান। একজন সাধারণ কম্পিউটার অপারেটর হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য এবং গোপনীয় নথি পাচারের মাধ্যমে তিনি মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিক্ষা সচিবের দপ্তরে প্রেষণে কর্মরত থেকে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী ‘অনিয়ম সাম্রাজ্য’।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আরিফুর রহমান মন্ত্রণালয়ের ভেতরে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’-এর সভাপতি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সাথে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন একই দপ্তরে অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং বদলি বাণিজ্যের প্রধান কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হন।

​অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সচিবের দপ্তরে আসা অতি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের গোপনীয় তথ্য তিনি আওয়ামী পন্থী শিক্ষক নেটওয়ার্কে পাচার করছেন। মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল নথিপত্র তার হাতের নাগালে থাকায় তিনি নিয়মিতভাবে ভেতরের খবর বাইরে সরবরাহ করেন বলে ভুক্তভোগী ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে।

​আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে আসা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষকদের বদলির আবেদন বা ফাইল সচিবের টেবিলে উপস্থাপন করার নাম করে তিনি উপটোকন দাবি করেন। বদলী প্রত্যাশী শিক্ষকদের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করে ফাইল ছাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ঘুষের টাকা সরাসরি না নিয়ে বিকাশ বা নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করেন বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন “মন্ত্রণালয়ের সাধারণ একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আরিফুর রহমানের জীবনযাপন অত্যন্ত বিলাসবহুল, যা তার বৈধ আয়ের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

​নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলি করার বিধান থাকলেও আরিফুর রহমান কীভাবে টানা ১৫ বছর একই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে শিক্ষক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে যে, প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদ এবং টাকার জোরেই তিনি বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন।


​বর্তমানে বিএনপি সরকার যখন প্রশাসনের সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, তখন আরিফুরের মতো ‘ফাইল পাচারকারী’ ও ‘সিন্ডিকেট প্রধান’ কীভাবে এখনো সচিবের দপ্তরে খুঁটি গেড়ে বসে আছেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সচেতন মহল তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুনের ২৩ দিনেই দেশে এলো ২২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স

‘হাসপাতালের টয়লেট পরিষ্কারের দায়িত্ব সাংবাদিকদের দেওয়া উচিত’— স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মন্তব্যে বিতর্ক

দালিয়ান থেকে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ভেড়ামারায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নবীনগরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার

শ্রীপুরে ৩ কোটি টাকার খাল খননে ‘হরিলুট’: উচ্ছেদ ছাড়াই কাজ শেষ করার অভিযোগ

মালয়েশিয়ার উষ্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, জানালেন কৃতজ্ঞতা

নবীনগরে ডাকাতের কথায় নিরাপরাধ ব্যবসায়ীকে পুলিশের ফাঁসানোর অভিযোগ

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কাবাডি ও হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে নেই কুবি

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় লক্ষাধিক চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

১০

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, এরপরই চীন সফর

১১

মাভাবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ইউজিসিতে লিখিত অভিযোগ ‎

১২

জিয়াউর রহমান দেশকে করেছিলেন ঐক্যবদ্ধ আর শেখ মুজিব করেছিলেন বিভক্ত” – মাভাবিপ্রবি সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী টুকু

১৩

ডাকাতদের হামলায় আহত মুরাদনগরের এসিল্যান্ড, ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন

১৪

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে আবারও শীর্ষে ব্রাজিল

১৫

বিতর্কের মুখে বগুড়ার দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৬

মুখ ঢেকে কথা বলায় বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ড দেখলেন আলমিরন

১৭

টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

১৮

গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মারা গেলেন কাইল্লা পলাশ

১৯

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ

২০