সংঘাত-হানাহানি এড়িয়ে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে অনেক মানুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে এবং রক্ত দিতে হয়েছে। তাই গণতন্ত্রকে কার্যকর ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার পাশাপাশি সেগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শিল্প-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াতেও সরকার কাজ করছে। শিগগিরই কৃষি খাতে বিনিয়োগকারীদের ঠাকুরগাঁওয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের শান্তিপ্রিয় মনোভাবের কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক মত ও অবস্থান থাকতে পারে, তবে মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সংঘাত বা হানাহানিতে জড়ানো উচিত নয়।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই পার্থক্য নিরসনে আলোচনা ও সমঝোতার পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। জেলার তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এখানে একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এর আগে রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। পরে সার্কিট হাউজে জেলা পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে থাকা রাষ্ট্রপতির আগামীকাল ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।