র‍্যাবের পর এসআরবি, নতুন বাহিনী নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩১
র‍্যাবের পর এসআরবি, নতুন বাহিনী নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

র‍্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, প্রস্তাবিত কাঠামো ও ক্ষমতার বড় ধরনের পরিবর্তন না হলে নতুন নামের আড়ালে আগের বাহিনীরই কার্যক্রম ও সংস্কৃতি ফিরে আসতে পারে।


রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে টিআইবি।


সংস্থাটির মতে, প্রস্তাবিত বিলে এসআরবিকে বেশ কিছু বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেফতার, অস্ত্র ও বলপ্রয়োগের বিধান, অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির কাঠামো এবং জনবল স্থানান্তরের বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্টতা ও জবাবদিহির ঘাটতির ঝুঁকি রয়েছে।


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্তকে তারা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন। তবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করাকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বলা যায় না।


তিনি বলেন, র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনী গঠনের সময় অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে বাহিনীর কাঠামো, সদস্য নির্বাচন, ক্ষমতার সীমা, বলপ্রয়োগের নিয়ম এবং জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি।


টিআইবির ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বাহিনীকে কার্যকরভাবে জবাবদিহির আওতায় না এনে কেবল নাম ও কাঠামোর কিছু পরিবর্তন করা হলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নাও হতে পারে।


সশস্ত্র বাহিনী থেকে সদস্য প্রেষণে নেওয়ার সুযোগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, পুলিশিংয়ের কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থাকলে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় সামরিক কৌশল প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে পুলিশ বাহিনীর বাইরে থেকে সশস্ত্র বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে এসআরবিতে যুক্ত করার বিধান বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।


র‍্যাবের বর্তমান সদস্যদের নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি। টিআইবির মতে, অতীতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের যাচাই ছাড়া নতুন বাহিনীতে নেওয়া উচিত হবে না।


এ জন্য একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভেটিং প্রক্রিয়া চালুর সুপারিশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম (এসএসআর) ও ডিডিআর নীতিমালার আলোকে সদস্যদের অতীত ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন।


টিআইবি মনে করে, র‍্যাব বিলুপ্তির পর নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ সরকারের সামনে নিরাপত্তা খাত সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে এসআরবির ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সীমা, স্বাধীন তদারকি, সদস্যদের কার্যকর যাচাই এবং নাগরিকদের প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।


সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, নতুন বাহিনী যেন অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্র না হয়, সে জন্য আইন প্রণয়নের আগেই এর কাঠামো ও জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা দরকার।


এদিকে, প্রস্তাবিত এসআরবি বিলের বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু সুপারিশসহ একটি পলিসি ব্রিফ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে টিআইবি। বিলটি চূড়ান্ত করার আগে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য