৪২ বছর পর সংশোধন হচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১৮
৪২ বছর পর সংশোধন হচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা


দীর্ঘ ৪২ বছর পর দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগ বাড়ানো, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসরকারি এয়ারলাইনসের কার্যক্রম সহজ করতে নতুন ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হচ্ছে।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিধিমালাটির খসড়া চূড়ান্তকরণ সভায় এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।


মন্ত্রী বলেন, ১৯৮৪ সালের বিধিমালা সংশোধন করে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নতুন বিধিমালাকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।


বিধিমালা প্রণয়নে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এয়ারলাইনসগুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। বিনিয়োগ সহজ করতে বিধিমালা তৈরির প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।


বেসরকারি এয়ারলাইনসের জন্য বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। উড়োজাহাজের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ছাড়া উড়োজাহাজ-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষায় নতুন বিধিমালায় ইরিভোক্যাবল ডিরেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড এক্সপোর্ট রিকোয়েস্ট অথোরাইজেশন (আইডিইআরএ) সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করা হবে।


বিমানবন্দরের ভৌত অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর পরিদর্শন ও মহড়া আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।


তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শৈথিল্য রাখা যাবে না। নিয়মিত পরিদর্শন ও মহড়ার মাধ্যমে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।


## আন্তর্জাতিক মানের এমআরও স্থাপনের পরিকল্পনা


দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক মানের মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিমানমন্ত্রী।


রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এমআরও সুবিধা গড়ে তুলতে পারলে দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।


বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন এবং বিদ্যমান বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে নতুন বিধিমালার প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য