শুধু আওয়ামী লীগ করার কারণে আদালতে যেন অন্যায় বিচার না হয়—এমন আর্জি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। মঙ্গলবার কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সকালে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম প্রথমেই অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ও ঘটনার প্রমাণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়ে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায় এই আসামিদের ওপর বর্তায়, যার অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালের কাছে রয়েছে।
এ মামলার চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তারা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চালিয়ে যেতে আইনটি আওয়ামী লীগ সরকারই প্রণয়ন করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত জানিয়ে কিছু শঙ্কার কথা তুলে ধরে আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগ করি—এটা সত্য। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে যেন বিচার না হয়।”
এ সময় ট্রাইব্যুনাল তাকে আশ্বস্ত করে জানায়, এখানে সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন বিচারের মুখোমুখি না হন, এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও বিচার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।
এ মামলায় মোট ৩৮ জন সাক্ষীকে হাজির করা হবে। প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৮ ডিসেম্বর। এর আগে চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েও আদালতে তাদের হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় রাষ্ট্রনিযুক্ত ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয় এ মামলায়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা ও বহু মানুষকে আহত করার অভিযোগে এই মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দেয় তদন্ত সংস্থা—উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা।
মন্তব্য করুন