মুসলমানদের জীবনে পরকালীন সাফল্যের বড় সহায় হলো দোয়া। বিশেষত মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির জন্য দোয়া করা ইসলামি শিক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। প্রিয়জন, আত্মীয় কিংবা যে কোনো মুসলিম ভাই-বোন মৃত্যুবরণ করলে তাঁর মাগফিরাত ও রহমতের জন্য দোয়া করা জীবিতদের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
কেন মৃতের জন্য দোয়া করা জরুরি?
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, মানুষ মারা গেলে তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়; শুধুমাত্র তিনটি বিষয় ছাড়া:
১) চলমান সদকা
২) উপকারী জ্ঞান
৩) নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে
(হাদিস: মুসলিম)
মৃত ব্যক্তির জন্য প্রচলিত দোয়া (সহীহ হাদিস থেকে নেওয়া)
১. সাধারণ দোয়া:
> “আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু, ওয়া আফিহি, ওয়া’ফু আনহু”
অর্থ: হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, তাকে সুস্থতা দিন এবং তার গুনাহ মাফ করুন।
২. পুরুষ মৃতের জন্য পূর্ণ দোয়া (নারীর ক্ষেত্রে ‘লাহু’ এর স্থলে ‘লাহা’):
> “আল্লাহুম্মাগফির লাহু, ওয়ারফা দারাজাতাহু ফিল মাহদিয়্যীন, ওয়াখলুফহু ফি আকিবিহি ফিল গাবিরীন, ওয়াগফির লানা ওয়া লাহু বা রাব্বাল আলামীন, ওয়াফসাহ লাহু ফি কবরিহি, ওয়ানাওয়ির লাহু ফীহি।”
অর্থ: হে আল্লাহ! তাঁকে ক্ষমা করুন, হেদায়েতপ্রাপ্তদের মাঝে তাঁর মর্যাদা উঁচু করুন, তাঁর উত্তরসূরিদের জন্য উত্তম অভিভাবক হোন, তাঁকে ও আমাদের ক্ষমা করুন, তাঁর কবর প্রশস্ত করুন এবং তা আলোকিত করে দিন।
৩. বাবা-মায়ের জন্য দোয়া:
> “রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী সাগীরা”
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! যেভাবে তারা আমাকে শিশু অবস্থায় লালন-পালন করেছেন, তেমনি তাদের প্রতি দয়া করুন।
৪. সব মৃত মুসলমানদের জন্য দোয়া:
> “আল্লাহুম্মাগফির লিহাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা, ওয়া শাহিদিনা ওয়া গা’ইবিনা, ওয়া সাগীরিনা ওয়া কাবীরিনা, ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা।”
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সকলকে ক্ষমা করুন।
দোয়া করার সময় যা খেয়াল রাখা উচিত
আন্তরিকতা ও বিনয়ে দোয়া করা
নামাজ শেষে, জানাজার পরে বা কবর জিয়ারতের সময় দোয়া করা উত্তম
মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে “লাহু”, নারী হলে “লাহা” ব্যবহার করা
সওয়াবের নিয়তে কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা বা নফল নামাজ করা যেতে পারে
মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া শুধু একটি ধর্মীয় কর্তব্য নয়—এটি ভালোবাসা, স্মরণ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
মন্তব্য করুন