চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করায় পাসের হার, জিপিএ-৫ এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বোর্ড মিলনায়তনে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম।
কুমিল্লা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৭৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। গণিতে ফেল করেছে ২৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং ইংরেজিতে ফেল করেছে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী।
এ বছর মোট ৯ হাজার ৯০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যেখানে গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ১০০। শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২টি, যা গত বছর ছিল ৯৮টি। সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র নাঙ্গলকোটের ইসলামপুর উচ্চবিদ্যালয়ে, যেখানে ৩২ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
বিভাগভিত্তিক পাসের হার হলো বিজ্ঞান বিভাগে ৮৮ দশমিক ০১, মানবিকে ৪৬ দশমিক ৭৭ এবং বাণিজ্য বিভাগে ৫৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে। মেয়েদের গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং ছেলেদের ৬২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মেয়েদের মধ্যে ৫ হাজার ৪৯৫ জন এবং ছেলেদের মধ্যে ৪ হাজার ৪০৭ জন।
গণিত ও ইংরেজিতে ফেল বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম বলেন, “এ দুটি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের বিকল্প নেই। শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।”
ফলাফল ঘোষণার সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক খোন্দকার ছাদেকুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীনসহ বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন