পর্দার জনপ্রিয়তা ছাড়িয়ে এবার বাস্তব রাজনীতির মঞ্চে বড় এক অধ্যায় শুরু করলেন তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। রবিবার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সাদা শার্ট ও ব্লেজার পরা বিজয় যখন শপথ বাক্য পাঠ করছিলেন, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে সমর্থকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন বিজয়ের বাবা-মা।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজয়ের দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানও। নীল রঙের সিল্ক শাড়ি পরে তার উপস্থিতি ভক্তদের মাঝে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিনোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও আলোচিত করে তোলে।
নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে এককভাবে বৃহত্তম দল হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তারা ১০টি আসন পিছিয়ে ছিল। তবে কংগ্রেস, বাম দল ও অন্যান্য ছোট দলের নিঃশর্ত সমর্থনে বিজয় সরকার গঠনে সক্ষম হন।
অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক পর কংগ্রেস তামিলনাড়ুর শাসক জোটে যুক্ত হলো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
শপথের আগে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বিজয় রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির স্থাপন করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও তার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক যুগের সূচনা হলো, যেখানে সিনেমার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এক বিন্দুতে এসে মিলেছে।