আলোচিত তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারার সংসার ফের ভেঙে গেছে। দ্বিতীয়বার বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সাবিকুন্নাহার সারা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাবিকুন্নাহার জানান, পারিবারিক অশান্তি ও মতবিরোধের কারণে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, তারা নতুনভাবে সংসার শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন এবং দুই পরিবারও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল। তবে নানা কারণে সেই সম্পর্ক টেকেনি। শেষ পর্যন্ত রমজানের চাঁদরাতে তাদের বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবু ত্বহা আদনান ও সারা। প্রথম বিচ্ছেদের পর উভয় পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উদ্যোগে তাদের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটেছিল। পুনরায় সংসার শুরু করলেও সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং চার মাসের মাথায় আবারও আলাদা হয়ে গেলেন তারা।
এর আগে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ২১ অক্টোবর প্রথমবার তাদের বিচ্ছেদ হয়। সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে উভয় পরিবারের মধ্যস্থতায় ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে তারা আবারও একসঙ্গে জীবন শুরু করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফার সংসারও শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
রংপুরের তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে ধর্মীয় আলোচনা করে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৭ সাল থেকে অনলাইনে নিয়মিত বক্তব্য দেওয়া শুরু করার পর অল্প সময়েই তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ধর্মীয় নানা বিষয় সহজ ভাষায় উপস্থাপন করায় তার বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক অনুসারী তৈরি হয়।
২০২৩ সালের জুনে ঢাকায় যাওয়ার পথে তিন সঙ্গী ও গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন আবু ত্বহা আদনান। কয়েকদিন ধরে তার কোনো খোঁজ না মেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ ও নানা জল্পনা তৈরি হয়। আট দিন পর তিনি রংপুরে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, তিনি ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন এবং ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা তাকে দেশব্যাপী আরও পরিচিত করে তোলে।
এদিকে, বিচ্ছেদের বিষয়ে আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি এই বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক অনুসারী এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযথা সমালোচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন।