ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ শেষের দিকে এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কির সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এমন বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়কে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালো হচ্ছে। শনিবার (৯ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, তার ধারণা যুদ্ধ এখন শেষের দিকে এগোচ্ছে। যদিও তিনি সরাসরি যুদ্ধ সমাপ্তির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি, তবে বিশ্লেষকদের মতে এই মন্তব্য চলমান সংঘাত নিয়ে মস্কোর অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
এই ব্রিফিংয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয় রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টরি ডে প্যারেড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন পুতিন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া বর্তমানে ‘পুরো ন্যাটো জোটের সমর্থিত আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
প্যারেডে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, বিজয় সবসময় রাশিয়ার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে এবারের ভিক্টরি ডে প্যারেড ছিল আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই সীমিত পরিসরে। রেড স্কয়ারে ভারী ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল প্রদর্শনের পরিবর্তে বড় পর্দায় সামরিক সরঞ্জামের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চলমান যুদ্ধের চাপের কারণেই এবার আয়োজন তুলনামূলক সাদামাটা রাখা হয়েছে।
এবারের প্যারেডে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণও নজর কেড়েছে। দেশটির সেনারা রাশিয়ার সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুর্স্ক অঞ্চলে অভিযানে সহায়তা করার জন্য পিয়ংইয়ংকে কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিক্টরি ডে উপলক্ষে রাশিয়া তিন দিনের একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। অপরদিকে ইউক্রেনও ৬ মে থেকে যুদ্ধবিরতির কথা জানায়। যদিও বাস্তবে দুই পক্ষের হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে এক হাজার যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হওয়াকে সংঘাত কমানোর পথে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পুতিন যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকেই দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ন্যাটো পূর্বদিকে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও পরে ইউক্রেনকে পশ্চিমা বলয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আর সেখান থেকেই বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে টানা যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে মস্কো। অন্যদিকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তায় প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন।