কুমিল্লার লাকসামে রিপন আহাম্মদ (২০) নামে এক তরুণ বাবার প্রতি অভিমানে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের বড়বাম গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
লাকসাম থানা পুলিশ আজ শনিবার (৯ মে) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত ওই তরুণ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দিলটিরপাড় এলাকার নজির আহমেদের ছেলে।
লাকসাম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সিরাজুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনারদিন সকালে ওই গ্রামের মো. আবুল বাশার তাঁর মৎস্য খামারের একটি গুদাম ঘরের ভিতর ওই তরুণের গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ দেখে এলাকার লোকজনকে ডেকে আনেন। তাঁরা ঘটনাটি দেখে তাৎক্ষণিক পুলিশকে সংবাদ দেন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার এবং সুরতহাল করেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, তার পৈতৃক বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দিলটিরপাড় এলাকায়। তিনি এবং তার বড় ভাই মায়ের সঙ্গে লাকসামের বড়বাম গ্রামে নানার বাড়িতে থাকেন। সেই সুবাদে ওই গ্রামের আবুল বাশারের একটি মৎস্য প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
সূত্র আরো জানায়, পারিবারিক নানাহ বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে রিপনের মান-অভিমান চলছিল। সম্প্রতি তার বাবা নিজেদের একটি গরু বিক্রি করে দেন। এই নিয়ে শুক্রবার (৮ মে) রাতে বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রিপন ঘর থেকে বেরিয় যান।
নিহতের বড় ভাই মহিবুর রহমান, তার বাবা সিলেটে থাকেন। তার ছোট ভাই রিপন তার নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচটি গরু কিনে বাড়িতে রাখেন। এগুলো তার বাবা দেখভাল করতেন। গত সপ্তাহে তার বাবা একটি গরু বিক্রয় করে দেন। এই নিয়ে বাবার সঙ্গে রিপনের কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়াও তার বাবা নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। যা পরিবারে অশান্তির অন্যতম কারণ ছিল। এসব কারণে রিপন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
বড়বাম গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবুল মিয়া ও মো. শাহাবুদ্দিন জানান, পারিবারিক অশান্তি এবং বাবার প্রতি অভিমান ও মানসিক চাপ থেকেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন নাহার লাইলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।