২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে। পরীক্ষা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তবে ডিজিটাল প্রশ্নপত্র চালু হলেও শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও সাইবার হামলা বা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা চলাকালে কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে যেন পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। গত এসএসসি পরীক্ষায় এমন দু-একটি ঘটনার নজির ছিল। এবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীল আচরণ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খাতা মূল্যায়নেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন না। পাশাপাশি পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি, একজন পরীক্ষকের কাছে খাতার সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং র্যান্ডম পদ্ধতিতে উত্তরপত্র পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে মূল্যায়ন আরও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ২ জুলাই থেকে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি। এছাড়া ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন