জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো সাবেক সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলার রায় এটাই প্রথম। মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
গত ১৩ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেন। এ মামলায় অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বিচারাধীন জুলাই অভ্যুত্থান-সম্পর্কিত মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম যে মামলার রায় আসছে।
প্রোসিকিউশনের দাবি, পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি এবং হত্যা, নির্যাতন, পদ্ধতিগত আক্রমণ, উসকানি, সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আবেদন করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের মতে, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদ ব্যবহারের বিধানও আইনে সংযোজন করা হয়েছে।
এই রায় ঘোষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে চিফ প্রোসিকিউটর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজেও রায় সম্প্রচার করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রোসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক থাকায় রায়ে সাজা হলে তারা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন না। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, নারী বা পুরুষ—কোনো আসামির ক্ষেত্রেই রায় প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা নেই; অপরাধের গুরুত্বই হবে বিবেচ্য।
এ মামলায় ৫৪ জন সাক্ষ্যের মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হন। তদন্ত এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হলে রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নেয় ট্রাইব্যুনাল।
অন্যদিকে, হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মিছিল করেন গতকাল দুপুরে।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠন করা হয় নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং শুরু হয় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া। বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে তার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে প্রাক্তন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিককে।
বিচারকাজ শেষ হওয়া প্রথম মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হলে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিচারব্যবস্থায় যুক্ত হবে নতুন এক অধ্যায়—সাবেক সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার।
মন্তব্য করুন