সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯
সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক মাসের মধ্যেই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারে।


গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকটের কারণে দেশে লোডশেডিং বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় গ্রিডে কবে থেকে এখানকার বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষও।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।


কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এরপর নতুন জ্বালানি দেওয়ার জন্য একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।


প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্যান্য বিদ্যুতের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীলভাবে গ্রিডে সরবরাহ করতে হয়। এ কারণে রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।


তিনি বলেন, গ্রিডে যাতে সামান্যতম সমস্যাও না হয় এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পিডিবি, পিজিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকার কাজ করছে।


রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের আরও একটি ৪০০ কেভি অবকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।


বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনো পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম হয়নি। এই সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে যেকোনো সময় দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।


তিনি আরও বলেন, পিডিবির সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।


তবে রূপপুরের বিদ্যুতের দাম কত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুৎ কেনার জন্য পিডিবির সঙ্গে পৃথক চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে।


সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কিছু অর্থ পরিশোধ এখনো আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব লেনদেনে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ নির্ধারিত আর্থিক চ্যানেল ব্যবহার করতে না পারায় অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে রূপপুরের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, সে বিষয়েও এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য