তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫০
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে একাধিক প্রস্তাব পাওয়া গেছে। আরও আলোচনা শেষে জাতীয় সংসদে উপযুক্ত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৈঠকে ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম, টেলিভিশন চ্যানেল, বার্তা সংস্থা এবং সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে। আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে এ-সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাব ও ভিন্নমত রয়েছে। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং কারা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, তা নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি জানান, জনগণের জন্য উপযুক্ত যে পদ্ধতি জাতীয় সংসদ বিবেচনা করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক করতে সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের কোনো বক্তব্য বা বিকল্প প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। জনগণ চাইলে কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলেও মতামত এসেছে।

তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের সুযোগ সীমিত করতেই ১০ বছরের মেয়াদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, দলটি এখনো সেই অবস্থানেই রয়েছে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় এ ধরনের সংসদীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় কমিটি সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগোতে চায়। সংসদে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনদটি যেভাবে প্রণয়ন ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল বিকল্প প্রস্তাব দিলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

সংবিধান সংশোধনের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত সংগ্রহের পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন বিল সংসদে আনা হবে।

বিল নিয়ে সংসদে আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরেও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য এবং জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করবে কমিটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের ভিত্তি ছিল ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। এসব কমিশনের সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করেছে।

অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন বর্তমানে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ নয়। তবে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করে সুপারিশ নেওয়া যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠন এবং বিগত ১৭ বছরে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মতামতও নেওয়া হবে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য