সারা দেশে বসছে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা, ব্যয় ১৩০০ কোটি টাকা

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪২
সারা দেশে বসছে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা, ব্যয় ১৩০০ কোটি টাকা

অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সারা দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। ৬৪ জেলা, সব মহানগর এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে এ নজরদারির আওতায় আনা হবে।


এ জন্য ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আগামী দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।


পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী শনাক্ত, যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং সন্দেহজনক গতিবিধি রিয়েল টাইমে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।


জনবহুল এলাকায় একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের মুখ স্ক্যান করে ডেটাবেজে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পরোয়ানাভুক্ত অপরাধী কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার সক্ষমতাও থাকবে এসব ক্যামেরায়।


দেশ রূপান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপন করে সুফল পাওয়ায় দেশজুড়ে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


ক্যামেরা কেনা ও কারিগরি সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের।


ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান জানান, বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে ৩৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে আইন ভাঙার প্রবণতা কমেছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে।


আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর দুই শতাধিক পয়েন্টে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাড়ি চুরি রোধ এবং অপরাধী শনাক্ত করতেও এসব ক্যামেরার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।


পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত সিসি ক্যামেরা মূলত দৃশ্য ধারণ করে। বিপরীতে এআই ক্যামেরার রয়েছে স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণ ক্ষমতা। দ্রুতগতির গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করে তা জাতীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, সন্দেহজনক জটলা, মারামারি, আগুন কিংবা পরিত্যক্ত বস্তু শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পাঠানোর সক্ষমতা রয়েছে এসব ক্যামেরার।


ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, হেলমেট না পরা, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম কিংবা ট্রাফিক লাইন অতিক্রমের মতো ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-মামলা তৈরি হবে। সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকের মোবাইল ফোনে পাঠানো হবে মামলার তথ্য। ইতিমধ্যে এ সফটওয়্যারের সঙ্গে বিআরটিএর সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে।


অপহৃত ব্যক্তি বা নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত করতেও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কোনো অপরাধী গাড়িতে পালিয়ে গেলে নম্বর প্লেট শনাক্ত করে পরবর্তী এলাকায় তার গতিবিধি অনুসরণ করা সম্ভব হবে।


জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ডেটাবেজের সঙ্গেও ক্যামেরা নেটওয়ার্ক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ৯৯৯-এ কোনো অভিযোগ এলে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ক্যামেরার লাইভ দৃশ্য নিয়ন্ত্রণকক্ষে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


দেশের সব মহাসড়কও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। আগস্টের শেষ দিকে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ক্যামেরা বসানো হবে।


এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগামী বুধবার থেকে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করছে হাইওয়ে পুলিশ। ওভারস্পিড, অবৈধ পার্কিং ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা করা হবে। মামলার তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে গাড়ির মালিককে জানানো হবে।


পুলিশের আশা, এ উদ্যোগ সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা কমাতে ভূমিকা রাখবে।


পুলিশ জানিয়েছে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। ক্যামেরা নেটওয়ার্কের তথ্য নিরাপদ রাখতে ফায়ারওয়াল ও এনক্রিপশন ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের এআই প্রযুক্তি পরিচালনা ও তথ্য বিশ্লেষণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য