পরীক্ষার আগের দিন বিদ্যালয় বন্ধ ক্ষোভে শিক্ষার্থীদের তালা ভাঙ্গার চেষ্টা

দে
আসলাম উদ্দিন আহম্মেদ
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৩
পরীক্ষার আগের দিন বিদ্যালয় বন্ধ ক্ষোভে শিক্ষার্থীদের তালা ভাঙ্গার চেষ্টা


কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ আগামীকাল অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। অথচ পরীক্ষার আগের দিন বন্ধ। নদী পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে এসে বিদ্যালয় তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের দরজা ও তালা ভাঙার চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

‎ ঘটনাটি সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে খেয়ার আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম এভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করানো এবং স্কুলে পোস্টিং নিয়ে জেলা ও জেলার বাইরে শিক্ষকদের অবস্থান, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

‎তারা আরও জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির পাশাপাশি প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে এ বিদ্যালয়ে পাঠদানের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি প্রক্সি শিক্ষকের জন্য মাসে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হলেও বিদ্যালয়ের পাঠদানের মান ও নিয়মিত কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত কোন পরিবর্তন আসেনি।

‎বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিয়াম,মাজেদুল,শিশু খাতুন, সামসুন্নাহার জানান, শিক্ষকরা দিনের পর দিন স্কুলে আসেন না। সময়মতো পাঠদান হয়না। শিক্ষকরা যাতে নিয়মিত হয় সে লক্ষ্যে আজ আন্দোলনে নেমেছেন তারা।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যালয়টির এমন অবস্থা। পাঁচজন শিক্ষকের কেউ নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। বর্তমান প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহান দায়িত্ব নেয়ার পর এমন অবস্থা হয়েছে। আজকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছে। পরে স্থানীয়রা গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন।

‎এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ শিক্ষার্থীদের এমন আচরণকে অনাকাঙ্ক্ষিত বললেও, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।‎

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ ইসরাত জাহান বিদ্যালয় বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলের কারণে আজকে এ অবস্থা হয়েছে। কেউ কারও কথা শুনতে চায় না।

‎এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার শাহা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা টিও ও এটিওকে নিয়ে বসেছি। পরে বিস্তারিত জানাচ্ছি।#



সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য