পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মালিখালি ইউনিয়নের সাঁচিয়া গ্রামের মন্টু বিশ্বাস নামে এক প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ি ও জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষ অমর বিশ্বাস ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে দখলের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ ওই প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী শ্রীমতি সুবালা বিশ্বাসের।
সরেজমিনে গেলে, প্রয়ত মুক্তিযোদ্ধা মন্টু বিশ্বাসের স্ত্রী শ্রীমতি সুবলা বিশ্বাস জানান, আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু বিশ্বাস ১৯ শতাংশ জমির উপরে সরকারি ভাবে পাওয়া বীর নিবাস নামে একটি বসতঘর করে বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে আমার স্বামী ৪টি কন্যা সন্তান রেখে মারা যায়। আমার ছোট মেয়েটি প্রতিবন্ধী। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমার প্রতিপক্ষ অমর বিশ্বাস ও তার ছেলে সুমিত বিশ্বাস, এলাকার কিছু সংঘবদ্ধ স্বার্থন্বেষী লোকদের নিয়ে আমাদের উপরে অত্যাচার করে। স্বামী বেঁচে থাকতেও আমাদের উপরে অত্যাচার করত। কিন্তু স্বামী মারা যাওয়ার পরে অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা প্রায়ই বহিরাগত কিছু লোকজন এনে তার (মুক্তিযোদ্ধার) বাড়ির জায়গা দখলে নেয়া এবং গাছপালা কেটে ফেলার পাঁয়তারা করছে।
তিনি আরও বলেন, আমার (মুক্তিযোদ্ধার) মেয়ে জামাতাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বিভিন্ন অজুহাতে ঘরের আশপাশে কিছু গাছ কর্তন করে। এছাড়া বিভিন্ন সময় রাতের বেলা বাড়ির জানালা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
তিনি বলেন, যে দেশের জন্য আমার স্বামী জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল। আজ সে দেশে নিজ ভিটায় বসবাস করেও আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। জালিয়াত চক্র আমার বসতভিটা দখলের পায়তারা করছে। তাদের অপতৎপরতার কারনে চরম শঙ্কায় আছি। তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
স্থানীয় প্রতিবেশীরা সাংবাদিকদের বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু বিশ্বাস একজন ভালো মানুষ ছিলেন, তিনি সরকারি ভাবে বীর নিবাস নামে একটি ঘর পেয়ে তার ০৪ কন্যা সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে তিনি মারা যায়। তার কোন ছেলে সন্তান না থাকায় ছোট মেয়েকে বিবাহ দিয়ে তার স্ত্রী শ্রীমতি সুবলা বিশ্বাস, মেয়ে ও জামাইকে নিয়ে ওই ঘরে থাকেন। কিন্তু তার প্রতিপক্ষ অমর বিশ্বাস ও ছেলে সুমিত বিশ্বাস এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ওই পরিবারটি। বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে রাতের বেলা বাড়ির জানালা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন, এতে চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাছেন তারা। এ চক্র যেকোন সময় তাদের পরিবারের ক্ষতি করতে পারে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অমর বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়গুলো অস্বীকার করে বলেন, আমরা নিরীহ আমরা কারো ওপার জুলুম করিনি। আমার ফ্যামিলিতে ৩ জন লোক। আমার পিছনে কোন লোকজন নেই। এই এলাকায় কেউ বলতে পারবেনা যে আমরা তাদের উপরে জুলুম করি। আমরা নিরীহভাবে বসবাস করতেছি। ওনাদের অভিযোগ মিথ্যা। বরং আমরা তাদের অত্যাচারে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছি। আমার ঘরের সাথে তাদের পায়খানা, পায়খানার দুর্গন্ধে ঘরে বসবাস করা যায় না। লোকজনকে দেখালে বলে আমরা সরিয়ে দেব কিন্তু তারা সরায় না। এছাড়া তার দেবর বলে, পায়খানার দুর্গন্ধ যদি সইতে না পারো তাহলে বাড়ি থেকে চলে যাও। যে জায়গা নিয়ে কথা হয়েছে তা থেকে ২ শতাংশ জায়গা আমি তাকে বদল করে দিয়েছি। তারপরও তারা মামলাও করেছে।
এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার ওসি মোঃ তরিকুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।