বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, একটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠলে সেটি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করা।
বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামিনীর জানাজায় বাংলাদেশের স্পিকারের অংশগ্রহণ ঢাকা ও তেহরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে, বিরোধী দলের কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে ইরান সফর করলে সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের নাম সবারই জানা। তবে সেই দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রয়েছে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১০টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সমঝোতা ও সহযোগিতা কাঠামো গড়ে উঠেছে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো অনুসরণ করেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে চীন দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।
তিনি আরও জানান, চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক এবং অর্থনৈতিক করিডোর সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষিত হলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন