সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে নিখোঁজের প্রায় দুই সপ্তাহ পর এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
নিহত কৃষকের নাম শিষ মিয়া আকন্দ (৪২)। তিনি উপজেলার লেংগুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিম আকন্দের ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১৪ তারিখ থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবার ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রবিবার সকালে দাসপাড়া গ্রামের পুরাতন মসজিদের পেছনের একটি পুকুর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ধর্মপাশা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে শুক্রবার দুপুর ২টায় ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা বাজার এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে শিষ মিয়া আকন্দ একটি জুয়া খেলার আসর থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, পাইকুরাটি ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সম্মানিত সদস্য শিষ মিয়া আকন্দকে সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রেখে যায়। ব্যানারে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন,
আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চাই, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যদি সঠিক বিচার না হয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন