যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪
যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন



চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৩টার দিকে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।


যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধুমধুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ডেভিড ইমন একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দিয়ে আলোচনায় আসেন। একের পর এক হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়ে পড়ে এবং বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি ওই গ্রুপের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পান।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ডেভিড ইমন বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করে সেখান থেকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।


গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের চকবাজারের অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর র‍্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। সিসিটিভি ফুটেজে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দলকে অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাতে দেখা যায়।


মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলার আগে ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপ কলে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি প্রত্যাখ্যান করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। দুই দিন পর সশস্ত্র হামলায় অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয় এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি প্রিন্টার এবং কর্মীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানিয়েছিলেন, ডেভিড ইমনসহ পুরো চক্রকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় যৌথ অভিযানে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য