শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়মের (২১) সুইমিংপুলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সহপাঠীদের দাবি, দীপাঞ্জন সাঁতার জানতেন। এরপরও কীভাবে তিনি পানিতে ডুবে গেলেন এবং ঘটনার সময় সুইমিংপুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বুধবার সিলেটের ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যান দীপাঞ্জন। তিনি শাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচজন একসঙ্গে সুইমিংপুলে নামলেও দীপাঞ্জন কখন পানিতে তলিয়ে যান, তা অন্যরা বুঝতে পারেননি। বিষয়টি সামনে আসার পর সুইমিংপুলের তদারকি, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
সুইমিংপুলটির ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু জানান, তাদের নিয়ম অনুযায়ী যারা সাঁতার জানেন না, তাদের ছয় ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। তবে দীপাঞ্জন পুলের নয় ফুট গভীর অংশে চলে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
দীপাঞ্জনের সহপাঠী ফায়াজ নবী বলেন, তারা তিন বন্ধু নিয়মিত ওই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যেতেন। ওই দিন প্রিয়মও তাদের সঙ্গে যাওয়ার কথা জানান এবং তিনি সাঁতার জানেন বলেও জানিয়েছিলেন।
ফায়াজের ভাষ্য অনুযায়ী, সাঁতার কাটার সময় দীপাঞ্জন কয়েকবার নয় ফুট গভীর অংশে গিয়ে আবার ফিরে এসেছিলেন। পরে তিনি আবার গভীর অংশে গেলে অন্যরা বিষয়টি খেয়াল করতে পারেননি।
ঘটনার পর সুইমিংপুলে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী ছিলেন কি না, একজন সাঁতারু বিপদে পড়লে দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারের কী ব্যবস্থা ছিল এবং ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কোথায় ছিলেন—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীপাঞ্জনের মৃত্যুর ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান।
সিলেটের বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আব্দুস সালামও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, ঘটনার দিন দীপাঞ্জন ও তার সহপাঠীরা একসঙ্গে ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে যান। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পুলের প্রায় নয় ফুট গভীর অংশ থেকে তাকে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন কর্মীরা। পরে সিলেটের দরগা গেটসংলগ্ন নুরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রতনকান্দি গ্রামের কৃষ্ণ দুলাল ঘোষ ও চম্পা ঘোষের ছেলে। তার পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকে। পড়াশোনার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন। সহপাঠী ও শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপাঞ্জন মেধাবী ও বিনয়ী শিক্ষার্থী ছিলেন।