কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসন ঢাকা-১৭ এলাকায় চাঁদাবাজি কিংবা সম্পত্তি দখলের দুঃসাহস কারা দেখাতে পারে, তা জানতে চেয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাতের আঁধারে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে চাঁদা না দেওয়া অথবা সম্পত্তি দখল—এই দুই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
নাহিদ প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস কারা পেতে পারে?
তিনি বলেন, কোনো স্থাপনা অবৈধ হলে কিংবা কেউ জমি দখল করে রাখলে তা উদ্ধারের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আদালতের পথ অনুসরণ না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দখল নেওয়ার চেষ্টা কেন করা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পোস্টে ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগ করেন নাহিদ। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের পরিধি বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিচার চাওয়ার বিষয়ে তাঁর আস্থা নেই। তবে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সালমানের স্টুডিওতে হামলার সঙ্গে চাঁদাবাজির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড ও পাশের জমির মালিকের মধ্যে বিরোধের জেরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনাতেও ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য। এ আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় গুলশান, বনানী ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অংশ রয়েছে।