ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের প্রশ্ন করেন, ছাত্রশিবিরের যেসব সদস্য ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটি ক্ষমা চাইবে কি না।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, আবরারের ওপর প্রথম নির্যাতন শুরু করেছিলেন মেহেদী হাসান রবিন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন কাদের।
তিনি আরও বলেন, রবিনের দাদা স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। রবিন নিজেও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে অনুমান প্রকাশ করেন তিনি। তবে তাঁর এ অনুমানের পক্ষে পোস্টে কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কৌশলের সমালোচনা করে আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, সংগঠনটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিচয়ে গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এতে ছাত্রশিবির লাভবান হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, ছাত্রশিবিরের প্রকাশ্য কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগ ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে নির্যাতন করত। এ ধরনের অভিযোগের কারণে অনেক নিরপরাধ শিক্ষার্থী নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল কাদেরের মতে, আবরার ফাহাদও এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রমের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যার সুযোগ নিয়ে ছাত্রলীগ নির্যাতন চালাত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন আব্দুল কাদের। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রশিবির এখনো গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার কৌশল অনুসরণ করছে। এ ধরনের রাজনীতি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে আব্দুল কাদেরের এসব অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।