চাকরির নিয়োগ যাচাইপ্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা কিছু ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নিজেদের ছাত্রশিবিরের কর্মী বা নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এতে চাকরির নিয়োগ যাচাই এবং রাজনৈতিক পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রশাসন জটিলতার মুখে পড়ছে।
তিনি লেখেন, ‘বিশেষ করে চাকরির ভেরিফিকেশনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার তথ্য যাদের বিরুদ্ধে উঠে আসছে, এরা অধিকাংশই শিবির।’
রাশেদ খাঁনের দাবি, ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আলাদা করে শনাক্ত করতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে। তাঁর মতে, যাচাইপ্রক্রিয়ায় কাউকে বাদ দেওয়া কিংবা নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান সহসভাপতি সাদিক কায়েমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে যখন তাঁরা মিছিল করেছিলেন, তখন সাদিক কায়েম ছাত্রলীগের পক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটলে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশের অভিযান নিয়েও পোস্টে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে কখনো কখনো বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তদবির করা হয়।
তবে চাকরির যাচাইপ্রক্রিয়ায় ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত—এমন দাবির পক্ষে পোস্টে কোনো পরিসংখ্যান বা যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করেননি রাশেদ খাঁন।
এ ছাড়া সাদিক কায়েম ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।