মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৪৫ লাখ মামলার জট কমানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৫
মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৪৫ লাখ মামলার জট কমানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী


দেশের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলার জট কার্যকর মধ্যস্থতা ব্যবস্থার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।


শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে **‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’** শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী **‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’** কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দরিদ্র, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।


তিনি বলেন, একজন মধ্যস্থতাকারীর জন্য শুধু আইনগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; মানবিকতা, প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে সমাধান তৈরির সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি অংশগ্রহণকারীদের জাপানের **‘জাস্টিস উইথ আ স্মাইল’** গ্রন্থটি পড়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, এ ধরনের সাহিত্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক।


মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইনজীবীরা সমঝোতায় আগ্রহী নন—এমন ধারণা সবসময় সঠিক নয়। দেশে-বিদেশে অসংখ্য সফল মধ্যস্থতা ও সালিশের পেছনে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান সময়ে আইন পেশায় আলোচনাভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, যা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।


তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয়ের পাশাপাশি মানুষ মানসিক উদ্বেগ ও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়। তাই হত্যা বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধ ছাড়া অধিকাংশ বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।


আইনমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ কর্মদক্ষতা প্রদর্শনকারী একজন নারী ও একজন পুরুষ মধ্যস্থতাকারীকে জাপানে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে দক্ষ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদার মধ্যস্থতাকারী তৈরিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


তিনি জাপান সরকার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট আইনজীবী মাসাকো মিয়াতাকেসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।


আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাইকার যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।


অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. খাদেমউল কায়েসের সভাপতিত্বে জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের (আইসিডি) উপমহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বক্তব্য দেন।


দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও জেলা জজ আদালতে কর্মরত আইনজীবীসহ মোট ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে মধ্যস্থতার মৌলিক ধারণা, কার্যকর যোগাযোগ কৌশল, সমঝোতা পরিচালনার দক্ষতা, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট আইনজীবী মাসাকো মিয়াতাকে ছিলেন এ প্রশিক্ষণের প্রধান প্রশিক্ষক।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য