বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি কেবল আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি একটি প্রস্তাবমাত্র।
সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস’ নামে একটি পৃথক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করছে ফিফা। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন প্রতিষ্ঠানের ২১ শতাংশ পর্যন্ত মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে সংস্থাটি।
ভিডিওবার্তায় ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস একটি প্রস্তাব মাত্র। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং একই সঙ্গে একটি সুযোগ। কাউকে এতে বাধ্য করা হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে বড় সুযোগ রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শুধু ফিফার সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়, ২১১টি সদস্য দেশের মতামত প্রয়োজন। এটি কার্যকর হলে ফুটবলে আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে এবং এর সুফল পাবে বিশ্বের সব সদস্য দেশ।’
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে ফিফাকে পরামর্শ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান। এছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসায়ী জোশুয়া কুশনারের নামও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে ফিফার এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে উয়েফা। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বকাপের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক মালিকানার অংশ বিক্রি হলে ফুটবলের মৌলিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফিফা এমন একটি সীমারেখা অতিক্রম করতে চাইছে, যা অতিক্রম করা উচিত নয়। ফুটবলের আত্মা বিক্রি করা যায় না। ফুটবল কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়।’
বিতর্কের মধ্যে উয়েফা তাদের ৫৫টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থাকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ভবিষ্যতে ইউরোপের দেশগুলো বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে পারে।
আগামী বিশ্বকাপের আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। এর মধ্যে স্পেন ও পর্তুগাল উয়েফার সদস্য হওয়ায় ফিফা ও উয়েফার এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন বিশ্ব ফুটবলের বড় আলোচনার বিষয়।