ঢাকা: প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়িত্বশীল পরামর্শকে স্বাগত জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং সুশীল সমাজের মতামত বাজেটকে আরও সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে দীর্ঘ, প্রাণবন্ত ও গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের সব সদস্যের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, সংসদ সদস্যরা তাঁদের বক্তব্যে জনগণের প্রত্যাশা, বাজেট বাস্তবায়নের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেছেন, যা সরকারের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম সৌন্দর্য হলো মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করা। দায়িত্বশীল আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে বাজেট আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, সংসদের বাইরেও দেশের অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বাজেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ দিয়েছে। সরকার এসব মতামত গভীর মনোযোগের সঙ্গে বিবেচনা করেছে এবং বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেগুলোর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার এমন এক সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেছে, যখন একদিকে ছিল পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অন্যদিকে ছিল নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা।
অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, এবারের বাজেট শুধু সরকারের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, কাঠামোগত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার রূপরেখা।
মন্তব্য করুন