ঢাকা: জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম জানিয়েছেন, বর্তমান দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে অবসরের সময় হয়েছে বলে মনে করছেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মামলা ও কারাবরণ করেছেন। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোলা থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, পানিসম্পদ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে মনোনীত হওয়ার খবর তিনি সেদিন সকালেই জানতে পারেন। স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখাকে দেখছেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, যদিও তিনি বিএনপির একজন সদস্য, তবে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে চান। তাঁর ভাষায়, স্পিকারের ভূমিকা অনেকটা ফুটবল ম্যাচের রেফারির মতো। খেলায় যেমন রেফারি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, তেমনি সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রেও তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
তিনি আরও বলেন, দলীয় আনুগত্যের কারণে অন্ধ সমর্থক হতে চান না। বরং সরকার ও বিরোধী দল—উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্য এমন সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার। তাঁর মতে, এবার জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদ অতীতের তুলনায় আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং জনকল্যাণমুখী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, অতীতের কোনো সংসদের সদস্যরা এত ত্যাগ, সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়ে আসেননি। তাই তাঁর বিশ্বাস, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অতীতের সব সংসদকে ছাড়িয়ে জনকল্যাণে আরও ভালো রেকর্ড গড়বে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শেষ হয়েছে, এখন সেই গণতন্ত্রের সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে তাঁকে দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে তিনি কোনো ধন-সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করেননি এবং এ নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপও নেই। বরং এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে মনে করেন।
তিনি জানান, স্পিকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর এটিই হবে তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
মন্তব্য করুন