প্রাইভেট হাসপাতালের সুবিধার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দুর্বল রাখা হয় বলে অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য Rumeen Farhana অভিযোগ করেছেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি হাসপাতালগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে না। সম্প্রতি একটি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকে, যাতে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়।
অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা বলেন, “ইচ্ছা করে সরকার সরকারি হাসপাতালগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে না। কারণ প্রাইভেট হাসপাতালের সঙ্গে তাদের অবৈধ চুক্তি থাকে, যাতে রোগীদের সেখানে পাঠানো যায়।” তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত রাখার কারণে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতে হয়।
সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণে দেখবেন সরকারি হাসপাতালের মেশিন সারা বছর নষ্ট থাকে, যাতে প্রাইভেট হাসপাতালেই চিকিৎসা করাতে হয়।”
টকশোতে দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এই সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে ৪৭৫ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তার মতে, যারা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেনি বা চিকিৎসার বাইরে ছিল, তাদের সংখ্যা হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, “যারা মারা যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তান। দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে পারলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেই সুযোগ নেই। ফলে প্রান্তিক মানুষের কষ্ট ও কান্না সমাজে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।
তিনি আরও বলেন, “আমরা সেই শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে পারিনি, পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে পারিনি। এমনকি সরকারি হাসপাতালে দরিদ্র শিশুর চিকিৎসারও কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে পারিনি।” স্বাস্থ্যখাতের এই সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুমিন ফারহানার এসব বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা, চিকিৎসা অবকাঠামো এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার সুযোগ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য করুন