আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে বেতন না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানরা।
হাসপাতালের পরিচালক ও হিসাব বিভাগের ভুলের কারণে প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর গত দুই মাসের বেতন এখনো পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চলতি অর্থবছরে এটি প্রথম নয়। এর আগেও গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়। তখন সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, “কোডে টাকা নেই।” পরে মার্চ মাসে সেই বেতন পরিশোধ করা হলেও মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আবারও একই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা জানান, মে মাসে এসে পুনরায় বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়া, কোরবানির পশু কেনা, সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কেনাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
নাম বলা না শর্তে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা বলেন, দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। ঈদের সময় বেতন না পেলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে পড়তে হবে।
এক কর্মচারী বলেন, একই অর্থবছরে বারবার ‘কোডে টাকা নেই’ অজুহাতে বেতন বন্ধ হওয়া খুবই দুঃখজনক। আমরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছি, কিন্তু সময়মতো বেতন পাচ্ছি না।
ভুক্তভোগী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও টেকনিশিয়ানরা দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও হাসপাতাল প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের একটাই দাবি, যেভাবেই হোক। ঈদের আগেই যেন বেতন পরিশোধ করা হয়।
হিসাব বিভাগে দায়িত্বে থাকা কম্পিউটার অপারেটর মিতু বলেন, সারাদেশে ১৫টি হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনের এরকম সমস্যা হচ্ছে। আশা করছি আজকে তাদের বেতন যার যার হিসাবে ঢুকে যাবে।
মন্তব্য করুন