গণমাধ্যমকে একটি আধুনিক কমিশনের আওতায় আনা গেলে সরকার কিংবা মালিকপক্ষ—কোনো পক্ষই আর সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম কমিশন প্রতিষ্ঠা হলে যেমন সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হারাবে, তেমনি মালিকপক্ষও সাংবাদিকদের ওপর একতরফা কর্তৃত্ব চালাতে পারবে না।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আধুনিক গণমাধ্যম কমিশনের অধীনে একটি সুসংগঠিত বিধি-বিধান ও নিয়মিত কাঠামোর মধ্যে গণমাধ্যম পরিচালিত হলে সব পক্ষই সমান স্বাধীনতা ও মর্যাদা ভোগ করতে পারবে। একইসঙ্গে কমিশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, যা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কমিশনভিত্তিক কাঠামো কার্যকর হলে সাংবাদিকতার নামে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপপ্রবণতাও বন্ধ করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় একটি নিরপেক্ষ কাঠামো থাকা প্রয়োজন, যেখানে সাংবাদিক, মালিকপক্ষ এবং সরকার—সবাই নিয়মের মধ্যে থাকবে।
গণতন্ত্র নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র শুধু ভোটের দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র ও সব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা জরুরি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতিও গণমাধ্যমের আর্থিক সক্ষমতা ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ও ভাতা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে নতুন কোনো গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। একইসঙ্গে তিনি গণমাধ্যম অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই এবং বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকে টেকসই ও স্বাধীন রাখতে হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন এবং নীতিমালাভিত্তিক কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আলোচনা উঠে আসে।
মন্তব্য করুন