সারা দেশে আগামী পাঁচ দিন কমবেশি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃষ্টিপাতের কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা এলাকায় স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
তিনি জানান, এ অবস্থার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চার বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ সময়ও কয়েকটি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ও শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানিয়েছে, সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।