দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য—কেউ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় তিনি এ বার্তা দেন বলে জানিয়েছেন সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য।
সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বিভিন্ন খাতে কী কী কাজ হয়েছে এবং সেসব কাজের বাস্তবায়ন কতটা এগিয়েছে, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি। নির্বাচনী এলাকার সমস্যা ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথাও শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
সভা শেষে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জনপ্রিয় ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দুলুর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে কারচুপির অভিযোগ ওঠে, এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া জানান, বৈঠকে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করার এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
পাশাপাশি দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা।