নাটোরের লালপুরে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার পরিচিত এক তরুণ ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে সেটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে লালপুর ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন একটি ফাঁকা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আশিক (২২) নামে এক তরুণের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার বিকেলে তারা লালপুরের গ্রিনভ্যালি পার্কে ঘুরতে যান।
একপর্যায়ে আশিক তাকে রিকশায় করে লালপুর ডিগ্রি কলেজের পাশের একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই আশিকের দুই বন্ধু শাকিল ও কাজল উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তরুণী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই বাড়ির একটি কক্ষে তাকে নিয়ে আশিক ও তার দুই সহযোগী ধর্ষণ করেন। এ সময় তাদের একজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে একটি অটোরিকশায় করে বাড়িতে পাঠানো হয়।
পরদিন রোববার দুপুরে ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে ঘটনার ভিডিও পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার বিনিময়ে তার কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
পরে বিষয়টি পরিচিত এক নারীকে জানান ভুক্তভোগী। পরিবারের সদস্যরা ঘটনা জানতে পেরে লালপুর থানায় যোগাযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আশিক, শাকিল ও কাজলকে হেফাজতে নেয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে ওসি জানান, ভুক্তভোগী ও তার এক স্বজন নিরাপদে রয়েছেন। তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।