দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতা মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানোর দাবি জানাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এসেও বিয়ের বয়স কমানো নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা হওয়া উদ্বেগজনক।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘এখন বড় বড় রাজনৈতিক দল আছে, যাদের বড় বড় নেতারা দিনে-রাতে আর্জি করছে যে কত অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যায়।’
তবে কোন রাজনৈতিক দল বা নেতারা এ ধরনের দাবি জানিয়েছেন, বক্তব্যে তাঁদের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
বিয়ের বয়স নিয়ে ঐতিহাসিক উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাজার বছর আগেও বিভিন্ন সভ্যতায় বিয়ের বয়স নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অথচ ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিকসের যুগে এসে বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের বয়স কতটা কমানো যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশক থেকে নারীদের বিয়ের বয়স বাড়ার পেছনে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করেছে।
এর ফলে বিয়ে, সন্তান গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাল্যবিবাহের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক পরিবার নিরাপত্তার উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রবণতা কমাতে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের নারীদের ক্ষমতায়নে শুধু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করলে চলবে না। পরিবারের সদস্যদেরও উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।
নারীদের যোগাযোগদক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, নিজের যোগ্যতা, কাজ কিংবা পণ্যের গুণাগুণ অন্যের কাছে তুলে ধরার সক্ষমতা কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের জন্য বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে শ্রমবাজারের চাহিদা, সামাজিক বাস্তবতা এবং পারিবারিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের পেশাগত ও জীবনমুখী দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ সৃষ্টি করা।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম।
এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।