জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও ডিসেম্বরে সরকার পতনের বক্তব্যের পেছনে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নূর বলেন, বিভিন্ন পক্ষ ডিসেম্বরে সরকার পতনের কথা বলছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির একটি অংশও একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। এসব বক্তব্যের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে দলটি বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজপথে ছিল। বর্তমানে জামায়াতের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নুরের ভাষায়, জামায়াতের উত্থান দেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং বাংলাদেশের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সচেতন তরুণ ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন ও লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাড়ে ছয় মাসের মাথায় এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান নুরুল হক নূর।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান প্রতিমন্ত্রী।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার বিষয়ে নুর বলেন, তরুণদের মধ্যে সালমানের জনপ্রিয়তা রয়েছে। ঘটনার পর তাঁর প্রতি মানুষের সংহতি ও সমবেদনার বিষয়টিও সবার নজরে এসেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।