কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মরিয়ম বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টা ৯ মিনিটে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মরিয়ম বেগম চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সরওয়ার আলম ও ফোরকানারা বেগমের মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভাইয়ারপাড়ার গোলাম রসুলের ছেলে ফরহাদ হোসেনের (৩০) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, বিয়েতে প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুকের জন্য মরিয়মের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মরিয়মকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মাকে ফোন করে তাঁকে নিয়ে যেতে বলা হয়।
পরদিন ৫ অক্টোবর মরিয়মের মা সেখানে গিয়ে মেয়েকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে চরম্বা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শওকত বলেন, মরিয়মের পারিবারিক বিরোধ নিয়ে তিনি একাধিকবার সালিশ করেছেন। গত ৪ অক্টোবরের ঘটনার বিষয়েও তিনি অবগত রয়েছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে কাকারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা শোয়াইবুল ইসলাম এমএ বলেন, মরিয়ম স্থানীয় টমটমচালক সরওয়ার আলমের একমাত্র মেয়ে। তাঁর জানা মতে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুক দাবি করা হতো। গত ৪ অক্টোবর তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মরিয়মকে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে শোয়াইবুল ইসলাম এমএ আরো বলেন, যৌতুকের কারণে আর কোনো নারীকে যেন প্রাণ হারাতে না হয়, সে জন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।