মিন্টু মন্ডল ও জোছনা মন্ডলের ছেলে দেব মন্ডলের গল্পটা অন্যরকম। বাবার ছোট্ট সাইকেল মেরামতের দোকানের টুংটাং শব্দের মধ্যেই বেড়ে ওঠা এই কিশোর আজ নিজের পায়ের জাদুতে পুরো বরিশালের ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। অভাবের সংসার, নেই কোনো নামী একাডেমি কিংবা পেশাদার কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সহজাত প্রতিভা দিয়ে চলমান ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উজিরপুরের এই কিশোর ফুটবলার।
সরকারি উজিরপুর বারো বাইকা মডেল ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র দেব উপজেলা পর্যায়ে ২ গোল করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এবং জায়গা করে নেন বরিশাল জেলা কিশোর দলে। এরপর পিরোজপুরের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-১ গোলের জয় এনে দেন। সেমিফাইনালে পটুয়াখালীর বিপক্ষেও করেন দৃষ্টিনন্দন একটি গোল। তার নৈপুণ্যে ফাইনালে উঠে যায় বরিশাল জেলা দল।
খালি পায়ে গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলেই বড় হয়েছেন দেব। বাবার কষ্ট আর সংসারের অভাবই তাকে বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। জাতীয় দলের ফুটবলার মো. রাকিব হোসেন তার অনুপ্রেরণা, আর বিশ্ব ফুটবলে লিওনেল মেসি তার সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়।
দেব মন্ডল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ফুটবল আমার খুব প্রিয়। অনেক সময় খালি পায়েও মাঠে খেলেছি। বাবার কষ্ট দেখেই মনে হয়েছে আমাকে বড় কিছু করতে হবে। আমি একদিন বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলতে চাই। উজিরপুর ও বরিশালের মানুষ আমার জন্য দোয়া করবেন।”
উজিরপুরের ক্রীড়াপ্রেমী জাহিদ বলেন, “অভাবকে হার মানিয়ে দেব যেভাবে মাঠে নিজের প্রতিভা দেখাচ্ছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন সে দেশের ফুটবলেও বড় জায়গা করে নেবে।”
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী মৃদুল বলেন, “দেব অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। মাঠে তার আত্মবিশ্বাস, গতি আর গোল করার দক্ষতা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। আমরা উজিরপুরবাসী তার জন্য গর্বিত। সে আমাদের এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে।”
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, “দেব মন্ডলের এই অর্জন শুধু উজিরপুর নয়, পুরো বরিশালের জন্য গর্বের। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তার এমন সাফল্য প্রমাণ করে মেধা আর পরিশ্রম থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সে জাতীয় পর্যায়েও উজিরপুরের নাম উজ্জ্বল করবে।”
মন্তব্য করুন