সুন্দরগঞ্জে ভারি বর্ষনে তিস্তার নিচু এলাকা প্লাবিত – দৈনিক দেশেরকথা
arif khanh
৫ অক্টোবর ২০২৪, ৭:৫৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সুন্দরগঞ্জে ভারি বর্ষনে তিস্তার নিচু এলাকা প্লাবিত

টানা ভারি বর্ষন এবং উজান থেকে আসা ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি ডুবছে নিচু এলাকা। পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন চরে। পৌর সভার রামডাকুয়া এলাকা অবস্থিত কেন্দ্রীয় শ্বশানঘাটে পানি উঠেছে। ঠেকানা যাচ্ছে না অব্যাহত ভাঙন। নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ছে। পানি বাড়ায় চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া এক চর হতে অন্য চরে যাওয়া আসা করা সম্ভব হচ্ছে না। 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা , হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। ভারি বর্ষন ও উজানের ঢলে তিস্তার শাখা নদীর আশপাশ ডুবে যায় পানিতে। সেই সাথে শুরু হয় নদী ভাঙন। চলতে থাকে বছর ব্যাপী। নদী পাড়ের মানুষের দাবি, স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ দিনেও স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ, ড্রেজিং, নদী খনন, ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করেনি সরকার। যার কারণে প্রতি বছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, হাজারও একর ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে।

লালচামার গ্রামের মোনারুল ইসলাম জানান, ভারি বর্ষনের হঠাৎ করে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করায় নিচু এলাকা ডুবে গেছে।  তিনি আর বলেন, নদীতে পানি বাড়লে এবং বন্যা আসলে তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না।

হরিপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গার চর গ্রামের মোসলেম মিয়া বলেন, পানি বাড়লে চরের মানুষের দুঃখও বাড়ে। প্রতিবছর নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, আবাদী জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। একজন চরবাসিকে মৌসুমে কমপক্ষে ৪ বার ঘরবাড়ি সরাতে হচ্ছে। কিন্তু আজও স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধের কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না।

হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান, পানি বাড়ায় তার গোটা ইউনিয়নের নিচু এলাকা ডুবে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। পাশাপাশি ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে প্রাথমিক ভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী ভাবে ভাঙন ঠেকানো না হলে চরবাসির দুঃখ কোন দিনও দুর হবে না। ভাঙনে প্রতিবছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি এবং হাজারও একর ফসলি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির জানান, হঠাৎ ভারি বর্ষনের কারনে চরাঞ্চলের নিচু এলাকার ফসলি জমিতে পানি উঠছে। পানি স্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভাঙনের কারণে কিছু চর এলাকায় ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। এতে করে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল জানান, হঠাৎ ভারি বসষনের কারণে তিস্তার নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কিছু কিছু চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগকে খোঁজ খবর রাখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ত্রাণ সরবরাহ করা হবে। 

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ সরকারের উর্ধতন মহলের সিদ্ধানের ব্যাপার।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঝিনাইদহে পাটওয়ারীর সঙ্গে যা ঘটেছে তা শোভনীয় নয় : আইনমন্ত্রী

বিসিবি নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৮ পরিচালক

অভিষেকের বাড়িতে পুলিশের প্রবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ

রাষ্ট্র পরিচালনায় এত স্কুল-কলেজের প্রয়োজন নেই : ব্যারিস্টার ফুয়াদ

যুদ্ধের উদ্বেগ ও তীব্র গরমের মধ্যেই শুরু হলো পবিত্র হজ

কুড়িগ্রামে বেপরোয়াভাবে মাইক্রোবাস চালানোর সময় ২ জন আহত হয়েছে

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নবীনগরে সাংবাদিকদের সাথে মেয়র প্রার্থী মাসুদ রানা’র মতবিনিময়

দুই কোটিরও বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১০

বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির চূড়ায় স্কাইডাইভ, গিনেস রেকর্ড থাই অধ্যাপকের

১১

ঈদের দিনসহ আগামী পাঁচদিন বৃষ্টির দাপটের শঙ্কা

১২

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে তাড়াহুড়া নয়, সতর্ক অবস্থানে ট্রাম্প

১৩

“ছবি করেনি পাঁচটা, তারাও দেখি বডিগার্ড নিয়ে ঘোরে” : বাপ্পারাজ

১৪

ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা বগির পরিকল্পনা সরকারের

১৫

১১ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ, ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

১৬

ঈদযাত্রায় কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

১৭

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

১৮

ছাত্রদলের মামলায় জামিন পেলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা

১৯

স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই ইসির

২০