দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালী পৌরসভা থেকে সাধারণ নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার বাসিন্দারা জানান,ছাত্র জনতার আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ও বিগত আ,লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এখনও পৌরসভার বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। সেবা নিতে গিয়ে এখনও পদে পদে দিতে হচ্ছে ঘুষ আর হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালী পৌরসভায় এখনও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন আ,লীগের নেতা সাইফুল ইসলাম ! তিনি পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বহালতবিয়তে
পৌরসভার দায়িত্বে আছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পৌরসভার কর্মকতা বলেন, পৌর এলাকার ডেন তৈরিতে কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। সাম্প্রতিক সোনাপুরের কালীতারা বাজারে ৪০ টা বাজার ইজারার ফরম বিক্রি হলে ও সাইফুল ইসলাম কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়া টাকার বিনিময়ে তার পচন্দের ১ টা ফরম সিলেকশন করে ঐ ব্যক্তিকে মোটা অংকের ঘুসের বিনিময়ে বাজার পাইয়ে দেন। অভিযোগ উঠেছে,পৌর সভার ডিজিটাল সেন্টারে জনবহুল নিয়োগে ৫ জন চাকরি প্রার্থী দরখাস্ত করলে ও কোন প্রকার পরিক্ষা ছাড়া সাইফুলের পচন্দের ১ জন ব্যক্তিকে ৩ লক্ষ টাকা ঘুসের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেন তিনি। চাকরি পাইয়ে দিয়ে পৌরসভার ভিতরে ফটোকপি দোকান দিয়ে প্রতি কপি ৫ টাকা করে জনগন থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আরো অভিযোগ আছে সোনাপুর মাছ বাজারে ইজারার টাকা আদায় না করিয়া ইজারাদার সাথে গোপনে সুসম্পর্ক রেখে খাস কালেশনে করে আসছেন তিনি। ইতিপূর্বে পৌর সভায় সাইফুল ইসলামের একক ক্ষমতায় তিনজন মাষ্টার রুলের কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন তিনি প্রতিজন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে আ,লীগের প্রভাব খাটিয়ে এই ধরনে অপকর্মে লিপ্ত থাকার কারণে সাইফুল ইসলামকে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) পদ থেকে পদ অবনতি বা পদাবনমন Demotion পদে নামিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, পৌরসভার তিনটি অকেজো গাড়ি মেরামত জন্য জেলার মোটরযান পরিদর্শনের অনুমতি না নিয়ে সম্পূর্ণ বিধি বহিভূত ভাবে তার নিজের একক ক্ষমতায় তার এক নিকটতম আত্মীয় কাছে গাড়ি গুলো যশোরে প্রেরণ করেন সাইফুল ইসলাম। যা নোয়াখালীর চৌমুহনীতে করা যেতো। যশোরের গাড়ি গুলো আনা নেওয়ার ফলে পৌর সভার রাজেস্ব ব্যাপক ক্ষতি হয়। অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার কর্মচারীদের পদ উন্নতি বা বদলী বানিজ্য ক্ষেএে সাইফুল ইসলামের আংগুলের ইশারা হয়ে থাকে তিনি পৌরসভার আনোয়ার হোসেনকে মোটা অংকের রফাদফার মাধ্যমে ৭ দিনের মাথায় মাইজদী থেকে পদ উন্নতি মাধ্যমে চৌমুহনীতে প্রেরণ করেন। এবং সোনাইমুড়ী এক কর্মচারীকে ঘুসের মাধ্যমে নোয়াখালী পৌরসভা নিয়ে আসেন। সাইফুল ইসলাম নোয়াখালী যোগদানের পরে পৌরসভার কার্যালয়ে ওনার নির্ধারিত রুমকে কোন টেন্ডার কোটেশান ছাড়া সরাসরি নিজের একক ক্ষমতা বলে রুমে এসি, আসবাবপত্র, বসিয়ে নিজে বিল ভাউচার প্রস্তুত করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পৌর এলাকার জনগণের হোল্ডিংস ও করের টাকা বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে আত্মসাৎ অভিযোগ উঠেছে। ফলে পৌরবাসি পানি সহ বঞ্চিত হচ্ছে বিভিন্ন রকমের সেবা থেকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে রহিম নামে পৌর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘এক হাসিনার পতন হয়ে কোনও লাভ নেই। হাসিনার অনুসারীরা অনেকেই এখনও পৌরসভায় চাকরি করছে। আগের মতোই তারা এখনও সিন্ডিকেট তৈরি করে নাগরিকদের হয়রানি করেই যাচ্ছে। পৌরসভা থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের এখনই সরাতে করতে হবে।’ এদিকে, আবদুল জলিল নামের পৌরবাসী
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, নোয়াখালী পৌরসভার বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম নোয়াখালীতে যোগদানের পর থেকে বিগত আওয়ামী লীগ মনোনীত ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন। তিনি অবৈধভাবে পৌরসভার রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ না করে বিনা পৌরসভার কিছু কর্মকতার সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইতোপূর্বে সাধারণ জনগণ তার ভয়ে কোনও অভিযোগ করার সাহস পাননি। পৌর এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, সরকারের বরাদ্দ করা বিভিন্ন প্রকল্পের ও এডিবির কোটি কোটি টাকার কোনও কাজ তেমন একটা হয়নি। একটু বৃষ্টিতে শহরের পানি নিষ্কাশন হয় না। এ ছাড়াও বাজারের মধ্যের রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। নয়ন সাহা নামের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘মশার উৎপাতে এলাকার মানুষ নাজেহাল। পৌরসভা থেকে মশক নিধনের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হলেও তার কোনও কার্যক্রম চোখে পড়ে না। শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়কবাতিগুলো এখনও নষ্ট হয়ে আছে। এ ছাড়াও অভিযোগ আছে, সড়কের বাতি কেনার জন্য ব্যাপক টাকা আত্মসাৎ করেছেন কর্মকর্তারা। দ্রুত এসব দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচারের সমর্থকদের পৌরসভা থেকে সরানো হোক। তবেই নতুন প্রজন্মের স্বাধীন বাংলাদেশের সুফল পাবেন বাসিন্দারা।’অভিযোগের ব্যাপারে নোয়াখালী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলে ও ফোন রিচিব না করায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে নোয়াখালীর পৌরসভার প্রশাসক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন