গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল বেলকা নবাবগঞ্জ ফকিরপাড়া এলাকার শ্যামরায়ের পাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাদামাটিতে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীকে কাঁধে করে কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলকা নবাবগঞ্জ ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ বাক্কা দেওয়ানী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু গ্রামের প্রধান সড়কটি কাদা ও গর্তে ভরা থাকায় কোনো যানবাহন তার বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারেনি। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে কাঁধে করে ভাঙাচোরা রাস্তা পার করে মূল সড়কে নিয়ে যান। সেখান থেকে একটি যানবাহনে করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; বর্ষা এলেই চরাঞ্চলের মানুষ এমন দুর্ভোগের শিকার হন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শ্যামরায়ের পাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী সড়কের অধিকাংশ অংশেই বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে, আবার কোথাও পানি জমে ছোট ছোট খালের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্যোক্তা মোঃ জিয়াউর রহমান সরকার রয়েল বলেন, চরের মানুষ যেন আলাদা একটা জীবন যাপন করে। এখানে অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। রাস্তার কারণে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, ভ্যানও ঢুকতে পারে না। বর্ষাকালে ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। অনেকে কাদা মাড়িয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়। বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাসই শুনছি।
শ্যামরায়ের পাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে। বর্ষা মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থী কাদা ও পানির কারণে নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হতে পারে না। অভিভাবকেরাও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও ব্যাহত হবে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রোগী পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হয়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ বলেন, চরাঞ্চলের এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। একটি সড়কের অভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সবক্ষেত্রে মানুষকে চরম কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। তাই দ্রুত শ্যামরায়ের পাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী সড়কটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন