৩৩ বছর আগে ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় জমি বেদখল, চাঁদা দাবি ও প্রাণ নাশের হুমকি অভিযোগ উঠেছে। একই এলাকার আলকাছ আলী গংদের বিরুদ্ধে।
জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের ভারুয়াখালীর এলাকার এই ঘটনা ঘটেছে।
গত শনিবার সরজমিনে গিয়ে জানা যায়,
ভারুয়াখালী এলাকার সুলতানা মিয়া জানান, জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের জোকা গ্ৰামের মৃত ওয়াহাব আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন বাবু (৬০) দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে তিনি মিজানুর রহমান গংদের নিকট থেকে কটারবাড়ী মৌজায় যাহার বিআরএস খতিয়ান নং৩৮৮, বিআরএস দাগ - ৪৮০,মোট জমির পরিমাণ সাডে ৫৩ শতাংশ ক্রয় সূত্রে মালিক।
মিজানুর রহমান গং ১৯৯০ সালে কটারবাড়ি মৌজার বিআরএস মূলে মালিক বশির উদ্দিনের নিকট থেকে উক্ত জমি ক্রয় সূত্রে মিজানুর রহমান গংরা কবলা মূলে মালিক হয়।
মপরে ১৯৯৩সালে মিজানুর রহমানের নিকট থেকে সাডে ৫৩ শতাংশ জমি কবলা মূলে মালিক হন মোঃ মোশারফ হোসেন বাবু । উক্ত জমির উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নামজারি সম্পন্ন করেছেন।মোশাররফ হোসেন বাবু ৩৩ বছর পূর্বে ক্রয়কৃত জমির উপর তিন ভাই অটো রাইস মিল স্থাপন করেন । জামালপুর পূর্ব অঞ্চলের সুনামধন্য একমাত্র রাইস মিল ছিল। দীর্ঘ দিন সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল তিনি।
এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানা যায়,মোশাররফ হোসেন বাবু বিগত ২০২৩ সালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন । তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার পরও দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন ।বাবুর অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন তিন ভাই আটো রাইস- মিলটি একবারে বন্ধ যায় । মিল বন্ধ থাকা সুবাধে ময়মনসিংহ বাসায় বসবাস শুরু করেন ।
দীর্ঘদিন মিলটি বন্ধ থাকার কারণে মিলমালিক বাবুর লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হয়। বাবু তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকসান থেকে বাঁচতে রাইস মিলটি বিক্রি করে দেয়। মিল বিক্রির টাকা দ্ধারা ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে মিলের জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন । এবং কিছূ জমি বিক্রিও করেন।
অবশিষ্ট জমির বিক্রি করার জন্য ৪৮০ দাগের উপর সাইন বোর্ড টানানো হয় । সাইনবোর্ড টানানো দেখে এলাকার কতিপয় দুর্বৃত্তরা সময় অসময়ে চাঁদা দাবি করে। মোশারফ হোসেন বাবু ময়মনসিংহ থেকে এলাকায় এলে কটারবাড়ি এলাকার মৃত জালুর ছেলে মোঃ আলকাছ আলী গংরা বাবুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। আলকাস আলী গংরা চাঁদা না পেয়ে অতিসম্প্রতি সময় উক্ত জমিতে গিয়ে সাইনবোর্ড ভাংচুরসহ বাবুর জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে রেখেছে। খবর শুনে বাবু ময়মনসিংহ থেকে এলাকায় এসে তার জমিতে বেড়া ও সাইনবোর্ড ভাংচুর করা অবস্থায় দেখতে পায়। দুর্বৃত্ত আলকাস নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করার জন্য গত ১৬ আগস্ট ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন পরিষদের (চেয়ারম্যান) গ্ৰাম্য আদালত বরাবর এক মামলা রূজু করে । আলকাছের মামলার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়। ওই দিনে মোশাররফ হোসেন বাবু হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন এবং তার জমির কাগজপত্র প্রদান করেন। চেয়ারম্যান দুই পক্ষের জবাব ও জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে উভয় পক্ষকে আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দিলে আলকাছ আলী অস্বীকার করে। পরে আলকাছ আলী বাবুর জমিতে থাকা গাছপালা ও জমিতে চাষাবাদে বাঁধা সৃষ্টি করে। বাবু নিরুপায় হয়ে আবার চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করেন। পুনরাই উভয় পক্ষকে ৩০ আগস্ট হাজির হবার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। ৩০ আগস্ট বাবু উপস্থিত থাকলেও , আলকাস আলী গ্ৰাম্য আদালতে অনুপস্থিত থাকার কারণে মামলাটি একতরফাভাবে বাবু পক্ষে আয় প্রদান করেন । চেয়ারম্যান রায়ের কপিতে উল্লেখ করেছেন, গ্ৰাম্য আদালতে নির্দেশ অমান্য করলে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্ৰহনের আদেশ দেন।
এর পরও আলকাছ আলী গংরা বলাবলি করছে যে, বাবু কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা জমিতে চাষাবাদের জন্য বা বিক্রির উদ্দেশ্যে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলছে।
মোঃ মোশারফ হোসেন বাবু জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আইনের আশ্রয় নিবে বলে জানিয়েছেন।