শরতের মায়াবী আবেশে রোমাঞ্চকর শীতের হাতছানি

দে
আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৬
শরতের মায়াবী আবেশে রোমাঞ্চকর শীতের হাতছানি

গ্রামবাংলার নৈসর্গিক প্রকৃতিতে এখন ঋতুর রানী শরতের মায়াবী রূপের আমেজ। স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘের ভেলা, নরম-কুসুম ঝলমলে রোদ, নদীর তীরে কাশফুলের দোলা আর নির্মল বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে শরতের অপরূপ সৌন্দর্য। সাধারণত হেমন্তকে বলা হয় শীতের বার্তাবাহক। কিন্তু এবার নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গ্রামীণ জনপদে শরতের স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের সঙ্গেই শীতের আগমনী সুর যেন প্রকৃতিতে তৈরি করেছে এক ভিন্ন আবহ।সকালে শিশিরবিন্দু, রাতে ঠাণ্ডা বাতাস: বিস্তীর্ণ এই জনপদের ভোরের দুয়ারে ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশা, ঘাসের ডগায়, মাকড়সার জালে ও সবুজ পত্রপল্লবে জমে থাকা রাশি রাশি শিশিরবিন্দু ভোরের সূর্যকিরণে রূপালী অলঙ্কারের মতো ঝলমল করে উঠছে। মিষ্টি রোদ আর সন্ধ্যার হালকা শীতল বাতাস—সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে তৈরি হওয়া এই পরিবর্তন শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। গ্রীষ্ম আর ভাদ্রের তালপাকা গরমের পর শীতের এই পূর্বাভাস মানুষের মনে এনে দিয়েছে এক রোমাঞ্চকর স্বস্তির নিঃশ্বাস।সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকৃতির পালাবদলে কমছে দিনের পরিধি। কিছুদিন আগের তপ্ত সূর্যটাও তেজ হারিয়ে অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। দুপুরের আলো গড়াতেই গোধূলির আকাশে ধূসর কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে রাতের প্রকৃতি। উত্তরের হিমশীতল বাতাস ঘরের জানালায় হু-হু করে প্রবেশ করছে, মাঝরাতে গায়ে জড়াতে হচ্ছে পাতলা কাঁথা। টিনের চালে টুুপটাপ শব্দে ঝরছে শিশিরকণা।

নকশি কাঁথা সেলাই ও শীতকালীন কৃষির ব্যস্ততা: প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গ্রামে গ্রামে বাড়ছে ব্যস্ততা। শীত নিবারণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গ্রামীণ নারীরা কাজের ফাঁকে হরেক রঙের সুতা ও কাপড় দিয়ে নকশি কাঁথা সেলাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ পারিবারিক চাহিদা মেটাতে, আবার কেউ বাড়তি উপার্জনের আশায় নকশি কাঁথা বুনছেন।অন্যদিকে,শীতের আমেজের সঙ্গে বেড়েছে কৃষকের ব্যস্ততা। দিগন্তজোড়া মাঠে আলুসহ বিভিন্ন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে দিনরাত পরিশ্রম করছেন কিষাণ-কিষাণীরা। ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাজারে ফুলকপি, মুলা, লাউ, শিম, বরবটি, লালশাক, পুঁইশাকসহ হরেক রকমের আগাম সবজি উঠতে শুরু করেছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞদের অনুভূতি: ভোরে হাঁটতে বের হওয়া নিতাই পানিয়াল পুকুর খোলাহাটি গ্রামের একরামুল হক ও উত্তর দুরাকুটি পশ্চিম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল হান্নান বলেন,"ঋতু বৈচিত্র্যে হেমন্তকে শীতের বার্তাবাহক বলা হলেও এবার আশ্বিনের শুরু থেকেই শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। শেষ রাতে ফ্যান বন্ধ করে পাতলা কাপড় জড়াতে হচ্ছে। শরতের বিদায় আর শীতের আগমনের এই সন্ধিক্ষণ সত্যিই অসাধারণ।"

কিশোরগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিষয়ক শিক্ষক জ্যোতির্ময় রায় বলেন, "পৌষ ও মাঘ মাস মিলে শীতকাল হলেও জলবায়ু ও প্রকৃতির প্রভাবে এবার শরতেই শীত উঁকি দিচ্ছে। এই আগাম শীত যেমন জনজীবনের জন্য উপভোগ্য, তেমনি রবিশস্য ও আগাম সবজি চাষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।"

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য