গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে অপহরণ, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, জোরপূর্বক ৪৫ লাখ টাকার চেকে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও চেক আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী মোঃ শাহাদাৎ হোসেন। একই সঙ্গে তাঁকে অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ২০২৩ সালের জুন মাসে মোঃ আল আমিনের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ‘আমিন ফিড মিলস’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। চুক্তি অনুযায়ী তাঁর ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকার কথা ছিল। পরে আল আমিনের ভাই মোঃ আতিকুর রহমান আছলামও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবসার হিসাব ও লভ্যাংশ চাইলে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গত ২৭ আগস্ট দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে আল আমিন, আতিকুর রহমান আছলামসহ কয়েকজন তাঁকে জোরপূর্বক একটি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে হাত-পা বেঁধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
শাহাদাৎ হোসেনের দাবি, একপর্যায়ে ইসলামী ব্যাংকের দুটি চেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি চেকে ১৫ লাখ টাকা—মোট ৪৫ লাখ টাকার চেকে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনটি জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বিভিন্ন চেক ও অন্যান্য ব্যবসায়িক নথিপত্র তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাহাদাৎ হোসেন। তাঁর দাবি, তিনি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তাঁকে অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ব্যবসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও হিসাব-নিকাশ দেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
এ ছাড়া ওইদিন সন্ধ্যার পর অভিযুক্তদের লোকজন সাতখামাইর এলাকায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী, বৃদ্ধা মা, শাশুড়ি ও ২১ দিন বয়সী শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান শাহাদাৎ হোসেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা, অফিসে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও চেকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগের হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তি এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।