বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান প্রধানকে লাকসাম থানা পুলিশ অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে পৌরশহরের লাকসাম রেলওয়ে ক্লাবের পরিত্যক্ত ভবন সংলগ্ন স্থান থেকে ওই ছাত্রশিবির নেতাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ উল্লাহ ওই ছাত্রশিবির নেতাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন রাতে স্থানীয় লোকজন রেলওয়ে ক্লাবের পরিত্যক্ত ভবন সংলগ্ন স্থানে এক যুবককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে সংবাদ দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল গিয়ে অচেতন অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে লাকসামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে হাসপাতালের কর্তত্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশসহ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতৃবৃন্দ তাঁকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগেরদিন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান প্রধান দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ রাত ৮টা ২৯ মিনিটে সক্রিয় দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁর কোনও সন্ধান মিলেনি এবং মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
অবশেষে শুক্রবার (১২ জুন) নিখোঁজ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন পুলিশ। কিন্তু কীভাবে তিনি এখানে এলেন? এই বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। বর্তমানে তিনি কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলীকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।