দেশব্যাপী ভূমিসেবা কার্যক্রমকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। এ আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভূমিসেবার আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সুবিধা আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের ভূমিসেবা মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। আয়োজকদের মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নাগরিক সেবাকে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যেই এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেলা আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং এসব সেবা প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দুর্নীতি কমানো এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মেলা শুরুর আগের দিন সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, অতীতে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্নীতির কারণে বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতো।
ভূমিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকার চায় মানুষ যেন ঘরে বসেই অধিকাংশ ভূমিসেবা পেতে পারে। ভূমি অফিসে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার না হয়ে নাগরিকরা যাতে দ্রুত সেবা নিতে পারেন, সেজন্য অটোমেশন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভূমিসেবা ব্যবস্থাকে নাগরিকবান্ধব করতে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল করা, অনলাইনে নামজারি, ভূমি কর পরিশোধসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সাধারণ মানুষের সামনে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন